ঢাকা , মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ , ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাইয়ে ছাত্র-জনতা লুটেরা ও চাঁদাবাজদের জন্য রক্ত দেয়নি : জামায়াত আমির

আপলোড সময় : ২০-১০-২০২৬ ০৭:৩৭:৩৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২০-১০-২০২৬ ০৭:৩৭:৩৭ অপরাহ্ন
জুলাইয়ে ছাত্র-জনতা লুটেরা ও চাঁদাবাজদের জন্য রক্ত দেয়নি : জামায়াত আমির ফাইল ছবি
তোফােয়েল আহমেদ,  নিজস্ব প্রতিনিধি:   লুটেরা-চাঁদাবাজদের জন্য দেশের ছাত্র-জনতা চব্বিশের জুলাইয়ে রক্ত দেয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।জনগণ কোনোভাবেই লুটতরাজ, চাঁদাবাজি ও অন্যায়-অবিচার মেনে নেবে না। আগামীতে প্রত্যেকটি অপরাধের হিসাব দিতে হবে। মানুষের ওপর জুলুম করা, মানুষের অধিকার হরণ করা এবং অন্যের হক মেরে দেওয়ার জবাবদিহি করতে হবে।
আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) নগরীর জিইসি কনভেনশন সেন্টারে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে ‘প্রাক্তন সাথী-সদস্য সম্মেলন-২০২৬’ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।
প্রাক্তন সাথী-সদস্যদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, হালাল পথে জীবিকা অনুসন্ধান করতে হবে এবং সততা ও নৈতিকতার সঙ্গে জীবন পরিচালনা করতে হবে। দেশের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এমন কিছু বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, যেগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অবান্তর। এসব কথার জবাব দেওয়ার ন্যূনতম সময় আমাদের নেই। কথার প্রতিযোগিতায় না গিয়ে আদর্শ, নৈতিকতা ও কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। এই দেশে ইসলাম কায়েম হবে, ইনসাফের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে।
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, জুলাই আন্দোলনে বাংলাদেশের কয়েকটি জেলার মধ্যে চট্টগ্রাম বীরদর্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। চট্টগ্রামে প্রাক্তন সাথী-সদস্যদের এমন আয়োজন আমাকে অভিভূত করেছে। ইসলামী আন্দোলন দুনিয়াবি কোনো স্বার্থ বা ব্যক্তিগত প্রাপ্তির জন্য নয়; বরং আদর্শিক বিশ্বাস ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যেই এই আন্দোলন পরিচালিত হয়। দেশ ও জাতির কল্যাণে ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, আমাদের সবার মধ্যে ঈমানের সেই ফুলকি এখনো জাগ্রত রয়েছে। প্রাক্তন সাথী-সদস্য সম্মেলনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সবার উপস্থিতি তারই প্রমাণ। এই সম্মেলন কেবল একটি মিলনমেলা নয়; বরং দেশের প্রয়োজনে ও জাতির সংকটময় মুহূর্তে ঐক্যবদ্ধভাবে অগ্রণী ভূমিকা পালনের প্রত্যয়। অতীতের আদর্শিক শিক্ষা ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, দেশের মানুষ একটি আদর্শিক পরিবর্তনের জন্য অপেক্ষা করছে। এই পরিবর্তন ছাড়া দেশের প্রকৃত কল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানুষের প্রত্যাশার কিছুটা প্রতিফলন দেখা গেছে। জনগণের এই প্রত্যাশাকে ধারণ করে ন্যায়বিচার, সততা ও জনকল্যাণের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির ও সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ছাত্রজীবনে সংগঠন থেকে অর্জিত নীতি-নৈতিকতা, আদর্শ ও প্রশিক্ষণের শিক্ষা পুরো জীবন কাজে লাগাতে হবে। ছাত্রশিবির নেতৃত্ব তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ কারখানা। ছাত্রজীবনে অর্জিত সেই নেতৃত্বের গুণাবলি মূল সংগঠন ও সমাজজীবনে প্রতিফলিত করতে হবে। দেশের মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসতে হবে এবং সততা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।
ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ক্ষুদ্র বিষয় নিয়ে দলাদলি কাম্য নয়। বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জনে পারস্পরিক ঐক্য, সহনশীলতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখতে হবে। দেশের নেতৃত্ব যদি জামায়াতে ইসলামীর হাতে না আসে, তাহলে বাংলাদেশ থেকে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও রাহাজানি কখনো বন্ধ হবে না। দেশ ও মানুষের কল্যাণে প্রাক্তন সাথী-সদস্যদেরও সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামকে ইসলামের রঙে রাঙাতে হলে প্রাক্তন সাথী-সদস্যদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। তাদের অভিজ্ঞতা, যোগ্যতা ও সাংগঠনিক দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে সমাজে ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের কল্যাণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ বলেন, বাংলাদেশ একদিন ইনসাফ ও কল্যাণের রাষ্ট্রে পরিণত হবে, ইনশাআল্লাহ। আমরা সেই বাংলাদেশ দেখে যেতে চাই। এ লক্ষ্য অর্জনে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রাম করতে ছাত্রশিবির প্রস্তুত রয়েছে। ন্যায়বিচার, সাম্য ও জনকল্যাণভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় তরুণ সমাজকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, মুমিনের দৃষ্টান্ত একটি ভবনের মতো। একটি ভবন নির্মাণে যেমন ইট, বালু ও সিমেন্টের প্রয়োজন হয়, তেমনি একটি আদর্শিক সংগঠনকে শক্তিশালী করতে সবাইকে সংঘবদ্ধ জীবনযাপন করতে হবে। আমরা আর সাবেক থাকব না; বরং আনসার ও মুহাজিরদের মতো শপথবদ্ধ জীবনে প্রবেশ করব। যতক্ষণ নিঃশ্বাস থাকবে, ততক্ষণ ইসলামী আন্দোলনের পথে অবিচল থাকব এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করে যাব।
সম্মেলনের বিভিন্ন পর্যায়ে সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, মুহাম্মদ উল্লাহ, ফয়সল মুহাম্মদ ইউনুছ ও মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ও মেয়রপ্রার্থী অধ্যক্ষ মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালী এবং শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম অঞ্চল টিমের সদস্য মুহাম্মদ জাফর সাদেক, অধ্যক্ষ আমিরুজ্জামান, অধ্যাপক নুরুল আমিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, কক্সবাজার জেলা আমির মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী, রাঙামাটি জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মো. আব্দুল আলিম, চট্টগ্রাম মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. এ কে এম ফজলুল হক, ডা. ছিদ্দিকুর রহমান, দৈনিক কর্ণফুলী সম্পাদক আফসার উদ্দিন চৌধুরী, নগর অফিস সম্পাদক হামেদ হাসান ইলাহী, নগর কর্মপরিষদ সদস্য আবু হেনা মোস্তফা কামাল, ড. মাহবুবুর রহমান, মাওলানা মমতাজুর রহমান, অধ্যাপক সাইফুল্লাহ, আমির হোসাইন, অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুন্নবী, ফারুকে আজম, মাহমুদুল আলম, মুহাম্মদ ইসমাইল ও ড. আ ম ম মসরুর হোসাইনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Bangla Release 24

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ